দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও শিক্ষার্থীদের দাবির পর অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে মসজিদটিতে ৫ টন ক্ষমতাসম্পন্ন মোট ২১টি এসি স্থাপন করা হয়েছে। ফলে তীব্র গরমের মধ্যেও স্বস্তিতে নামাজ আদায়ের সুযোগ পাচ্ছেন মুসল্লিরা।
সরেজমিনে কেন্দ্রীয় মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের ভেতরে নতুন এসিগুলো স্থাপন করা হয়েছে এবং মুসল্লিরা স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করছেন। দীর্ঘদিন ধরে মসজিদে এসি স্থাপনের দাবি থাকলেও প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগসহ নানা জটিলতায় এতদিন তা চালু করা সম্ভব হয়নি। ডাকসুর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে দীর্ঘদিন যোগাযোগ ও তাগাদার পর প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ায় অবশেষে এসি ব্যবস্থা চালু হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, জোহরের নামাজ পড়তে কেন্দ্রীয় মসজিদে গিয়ে নতুন এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি দেখে তিনি আনন্দিত হয়েছেন। মুসল্লিদের মধ্যেও স্বস্তি ও আনন্দের ছাপ দেখা গেছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ডাকসুর দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও বারবার তাগাদার পর মসজিদটির এসি ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা কেন্দ্রীয় মসজিদের সংস্কার ও পুনঃসজ্জার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগও পূর্ণতা পেল।
অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান আরও বলেন, প্রায় চার দশক ধরে মসজিদটি অনেকটা পরিকল্পিত অবহেলার শিকার হয়েছে।
মসজিদটির উন্নয়নে এসি স্থাপন ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি পদক্ষেপ। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
সাবেক উপাচার্য জানান, ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ডাকসুর গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিনিধিদলের সদস্য আবু সাদিক, মাজহার ও আসিফসহ তিনি তৎকালীন জ্বালানি উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় কেন্দ্রীয় মসজিদের সংস্কারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহে তার সহযোগিতা চাওয়া হয়।
ড. ফাওজুল কবির খান পরে তাদের চট্টগ্রামে অবস্থিত একটি স্বনামধন্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। প্রতিষ্ঠানটি নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এরপর ডাকসুর উদ্যোগে এবং অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের সভাপতিত্বে ভিসি বাংলোয় প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে মসজিদ সংস্কারে প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।
পরবর্তী সময়ে ডাকসু বিষয়টি সক্রিয়ভাবে অনুসরণ করে এবং দাতাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে। এরপর মসজিদের অবকাঠামোগত ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।
সাবেক উপাচার্য বলেন, দায়িত্ব ছাড়ার আগে ড. ফাওজুল কবির খান ও তৎকালীন ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসেনকে নিয়ে ডাকসুর আয়োজনে মসজিদ সংস্কারকাজের উদ্বোধন করা হয়েছিল। সংস্কার প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এসি ব্যবস্থা। তবে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন এসিগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।
এ সময় ডাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে বারবার যোগাযোগ ও তাগাদা দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হলে কেন্দ্রীয় মসজিদের এসি ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়।
এ বিষয়ে ডাকসুর ক্যারিয়ার উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টার পর মসজিদে এসি চালু করা সম্ভব হয়েছে। পুরো মসজিদের সংস্কারকাজের চেয়েও এসির বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে বেশি বেগ পেতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সেকশন, ডিপিডিসি এবং নিকটস্থ বিদ্যুৎ অফিসসহ বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘদিন যোগাযোগ করতে হয়েছে।
ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে প্রশাসনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মসজিদের এসিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। নানা বাধা সত্ত্বেও ডাকসু শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ করেন আবু সাদিক। তিনি বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত জিমনেসিয়ামের উদ্বোধন আটকে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের জন্য ২ কোটি টাকার ব্যবস্থা করা হলেও প্রশাসনের অনীহা ও সদিচ্ছার অভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ডাকসুর ভিপি বলেন, শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে ডাকসু। শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানেও তারা কাজ করছেন। মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে ডাকসু কাজ করে যাবে।
