২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান ও হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান ও তৎকালীন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সোমবার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং পুলিশের ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) অতিরিক্ত আইজিকে চিঠি দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় প্রথম কোনো পলাতক আসামিকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, আজিজ আহমেদ মধ্যপ্রাচ্য অথবা অন্য কোনো দেশে অবস্থান করছেন। ইন্টারপোলের সহায়তায় তাঁকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন। পর্যায়ক্রমে বিদেশে অবস্থানরত মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিকেও ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মামলায় ৪১ জন আসামি
পুলিশকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচারাধীন আইসিটি কেস-৫/২৬ মামলায় আজিজ আহমেদসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। তদন্ত শুরুর পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
চিফ প্রসিকিউটরের চিঠিতে বলা হয়েছে, তদন্ত সংস্থা আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে ‘যুক্তিসঙ্গতভাবে বিশ্বাসযোগ্য’ প্রমাণ পেয়েছে। এ কারণে ট্রাইব্যুনালের মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে।
শাপলা চত্বরের অভিযানে আজিজ আহমেদের ভূমিকার অভিযোগ
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে। প্রসিকিউশনের দাবি, সমাবেশটি বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তৎকালীন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ অভিযানের অপারেশনাল পরিকল্পনায় অংশ নেন এবং বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করেন বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁর নির্দেশনায় ৩২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। অভিযানের সময় বিজিবি তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করে বলেও প্রসিকিউশনের দাবি।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
