ভারতের নির্মিত ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামের একটি তথ্যচিত্রের তীব্র সমালোচনা করে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বলেছে, বলিউডের সিনেমাটিক উপস্থাপনার মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রের কোনো বাস্তবতাকে বদলে দেওয়া কিংবা সামরিক পরাজয় আড়াল করা সম্ভব নয়। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) অভিযোগ তুলে ধরেছে, ভারত তাদের মূল সামরিক ব্যর্থতাগুলোকে স্বীকার না করে এই ধরনের নাটকীয় উপস্থাপনার মাধ্যমে ইতিহাসকে নিজেদের সুবিধামতো ও বিকৃতভাবে তুলে ধরার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
আইএসপিআরের দাবি অনুযায়ী, তথ্যচিত্রটিতে প্রচুর ভুল তথ্য ও অতিরঞ্জিত ঘটনার আশ্রয় নিয়ে ভারতকে একতরফাভাবে বিজয়ী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী এই ধরনের সিনেমাটিক প্রচেষ্টাকে পুরোপুরি বাস্তবতাবিবর্জিত ও হাস্যকর বলে আখ্যায়িত করেছে। একই সঙ্গে এই প্রচারণামূলক ভিডিওটিকে তারা ‘ট্র্যাজেডি ও কমেডি’র এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ বলেও অভিহিত করেছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আরও দাবি করে, তাদের পরিচালিত ‘মারকা-ই-হক’ এবং পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ ‘অপারেশন বুনিয়ানুম মারসুস’-এর সুনির্দিষ্ট নথি, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং স্বয়ং ভারতের একাধিক স্বীকারোক্তি থেকেই ঘটনার আসল সত্যতা প্রমাণিত হয়। তাদের মতে, ভারতের একাধিক সামরিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া এবং বহু সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানার মতো স্পষ্ট ঘটনাগুলোকে কোনো প্রচারণামূলক চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আড়াল করা সম্ভব নয়।
আইএসপিআর পরিশেষে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, শুধু প্রোপাগান্ডা বা কাল্পনিক চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে যুদ্ধের বাস্তব ঘটনা প্রবাহকে পরিবর্তন করা যায় না। একই সাথে ভবিষ্যতে ভারত যদি পুনরায় এই ধরনের কোনো সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে পাকিস্তান তার কঠোর ও উপযুক্ত জবাব দিতে দ্বিধাবোধ করবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।
