সাংবাদিক আনিস আলমগীরের লেখা তিন দশক পুরোনো একটি সংবাদ প্রতিবেদন সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে মন্তব্য করার জের ধরে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘এখন টিভি’র সাংবাদিক বেলায়েত হোসাইনের সাথে এক বিতর্ক ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়েছে। ১৮ আগস্ট দিবাগত রাতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কবি শামসুর রাহমানের একটি বক্তব্যের সংবাদ কভার করা হয়েছিল, যার প্রতিবেদক হিসেবে আনিস আলমগীরের নাম যুক্ত ছিল। সাধারণ একটি রিপোর্ট কভার করার পরও বাই-লাইন বা প্রতিবেদকের নাম নাম যুক্ত করা নিয়ে কিছুটা স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দেন জুনিয়র সাংবাদিক বেলায়েত হোসাইন।
এই ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে আনিস আলমগীর সাংবাদিক বেলায়েতের ইনবক্সে গিয়ে তাঁর মাকে জড়িয়ে নোংরা ভাষায় গালাগালি করেন এবং পরে মেসেজগুলো মুছে দেন। মেসেজে তিনি বেলায়েতের বিরুদ্ধে আলোচনায় আসার চেষ্টার অভিযোগ তোলেন। তবে মেসেজের জবাবে গালাগালি না করে শালীন ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়ে বেলায়েত লেখেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার চর্চা করলেও ভিন্নমতের কারণে মা তুলে গালি দেওয়া কোনো দায়িত্বশীল ও যোগ্য সাংবাদিকের পরিচয় বহন করে না।
ইনবক্সের বার্তার পাশাপাশি নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ্যে বেলায়েতকে ইঙ্গিত করে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক একটি পোস্ট দেন আনিস আলমগীর, যেখানে তিনি জুনিয়র ওই সাংবাদিকের জন্মপরিচয় নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও বর্ণবাদী কটূক্তি করেন। পরবর্তীতে এই মানসিক হেনস্তা ও কুরুচিপূর্ণ মেসেজের স্ক্রিনশট এবং বিবরণ দ্য ডিসেন্টের সাথে শেয়ার করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক বেলায়েত হোসাইন।
ঘটনার বিস্তারিত ও অভিযোগের বিষয়ে আনিস আলমগীরের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং কোনো বার্তা বা জবাবে সাড়া দেননি। জুনিয়র সাংবাদিকের গঠনমূলক সমালোচনা বা স্যাটায়ারের জবাবে প্রবীণ এক সাংবাদিকের এমন কুরুচিপূর্ণ আচরণ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
