এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেডকে এলসি খোলার বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পর এবার অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার ঋণের অবশিষ্ট অর্থ ছাড়ের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন ঋণপত্র (এলসি) খোলার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়, রূপালী ব্যাংকের অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণের অবশিষ্ট ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ ডলার এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে ছাড় করা যাবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি নতুন এলসি খুলতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেডের জন্য রূপালী ব্যাংকের ঋণ ছাড় ও এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭কক(৩) ধারার বিধান কার্যকর হবে না।
আইনের ওই বিধান অনুযায়ী, কোনো গ্রুপ ঋণখেলাপি হলে ওই গ্রুপের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান নতুন করে ঋণ বা ঋণসুবিধা পাওয়ার যোগ্য নয়। এস আলম গ্রুপ ঋণখেলাপি হওয়ায় এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেডের ক্ষেত্রেও এ বিধান প্রযোজ্য হওয়ার জটিলতা তৈরি হয়েছিল। নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে এ বিধান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
তবে এ সুবিধার আওতায় দেওয়া ঋণ বা অর্থায়নের কোনো দায় সরকার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংক নেবে না বলে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব ঋণের বিপরীতে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কোনো আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না সংশ্লিষ্ট ঋণদাতা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
এর আগে গত রোববার এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেডকে এলসি খোলার অনুমতি দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদিত সিন্ডিকেটেড ঋণের অবশিষ্ট প্রায় ৩২ লাখ ডলার ছাড়ের পাশাপাশি নতুন এলসি খোলার সুযোগ পেল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে দেশের সাতটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ। পরে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে শিল্পগোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
