এলএনজি কার্গো সংকটের কারণে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালটি পুরোপুরি গ্যাসশূন্য হয়ে পড়েছে। এর ফলে নতুন কার্গো না আসা পর্যন্ত দেশে সার্বিক গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট ও চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহের প্রায় পুরোটাই আসছে সামিট গ্রুপের মালিকানাধীন টার্মিনাল থেকে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দিনের শুরুতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে প্রায় ৬৬১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল। দেশীয় কূপগুলোর ১ হাজার ৬২৮ মিলিয়ন ঘনফুট মিলিয়ে দুপুর ১২টা নাগাদ গ্রিডে মোট ২ হাজার ২৮৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রবাহিত হয়। তবে বিকালের দিকে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং সন্ধ্যা ৬টার দিকে এলএনজি সরবরাহ কমে ৫৬২ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে, যার ফলে মোট সরবরাহ কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ১৮৯ মিলিয়ন ঘনফুটে।
রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে এক্সিলারেটের টার্মিনালটি পুরোপুরি গ্যাস শূন্য হয়ে পড়ে। সংস্থাটি প্রথমে বয়লার সচল করার জন্য ৭২ ঘণ্টার বিরতি নিয়েছিল, যা পরবর্তীতে ঠিক হলেও কার্গো সংকটের কারণে পুনরায় সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে কেবল সামিটের টার্মিনালটি সচল রয়েছে এবং সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ৫৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে সিঙ্গাপুর থেকে দুটি নতুন এলএনজি কার্গো কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যার প্রথমটি ২৩ আগস্ট দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে নতুন এলএনজি দ্রুত গ্রিডে যুক্ত হতে না পারলে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ সার্বিক সংযোগে গ্যাস সংকট আরও তীব্র রূপ নিতে পারে।
