রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম ছয় মাস পার করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। এ সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের কাজের গতি আরও বাড়াতে তিনটি মন্ত্রণালয়ে রদবদল এবং মন্ত্রিসভায় কয়েকজন নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
সরকার ও বিএনপির দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শনিবার (২২ আগস্ট) এর মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
তবে সাচিং প্রু জেরী ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন দুজনই জানিয়েছেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তারা এ ধরনের আলোচনা শুনেছেন। বুধবার বিকেল পর্যন্ত সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাদের কাউকেই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
সূত্র বলছে, বৃহস্পতিবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ হওয়ার এক থেকে দুই দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ১ জুন তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে প্রায় দুই মাস ধরে মন্ত্রণালয়টি পূর্ণ মন্ত্রীশূন্য রয়েছে। বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন মন্ত্রণালয়টির দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বেও রয়েছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর পদটি শূন্য হতে পারে। ফলে ওই মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আলোচনায় বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম রয়েছে। তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নাম আলোচনায় এসেছে।
তবে মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন খবরের বিষয়ে সম্প্রতি শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি গণমাধ্যমকে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে প্রকাশিত খবরের কারণে তিনি বিব্রত।
মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন নতুন মুখ
মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা হলে সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
এ ক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী, সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং ড. আসাদুজ্জামান রিপনের নাম আলোচনায় রয়েছে। সংসদের হুইপদের মধ্য থেকেও দু-একজনকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে দলের মধ্যে ‘বঞ্চিত’ হিসেবে আলোচিত কয়েকজন নেতাকেও এবার মন্ত্রিসভায় মূল্যায়ন করা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। তাদের মধ্যে শামসুজ্জামান দুদু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম বেশি আলোচিত হচ্ছে।
দলীয় নেতাদের একটি অংশ মনে করছে, বিগত সরকারের সময়ে হামলা-মামলা ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হলেও যারা এখনো মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি, পুনর্গঠনের সময় তাদের গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
