নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল করা হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই কিশোরী প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযোগ অনুসারে, ২০২২ সালে সে যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত, তখন প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম ভূঞা বকুল তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং গোপনে ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ও বিভিন্ন স্থানে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।
চলতি বছরের আগস্টের শুরুতে একটি ভিডিও প্রকাশ পেলে বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে। পরবর্তীতে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে পরীক্ষা করানো হলে জানা যায় কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা। এরপর মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত বেশ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম ভূঞা বকুল কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বুধবার রাতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে রফিকুল ইসলাম ভূঞা বকুলকে দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কেন্দুয়া পৌর বিএনপি। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, মামলার পর অভিযান চালিয়ে আবু মিয়া (৩৬) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার মূল অভিযুক্ত পলাতক বিএনপি নেতাসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
