সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জুলাইপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট ও প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বদের ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য (ডক্সিং) প্রকাশ্যে ফাঁস করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পলাতক আওয়ামী লীগের ক্যাডার ও তাদের সাইবার গ্রুপগুলো এই অপকর্মে সরাসরি যুক্ত থেকে নাগরিক অধিকার এবং তথ্যের সুরক্ষাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
প্রকাশিত বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট ও টেলিগ্রাম গ্রুপ থেকে দেখা যায়, সামান্তা শারমিন, ডাকসু নেত্রী রাফিয়া, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির, অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক এবং নাফসিন মেহেনাজ আজিরিনসহ একাধিক ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), ব্যক্তিগত ফোন নম্বর ও ঠিকানা প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব পোস্টের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের তথ্য ফাঁসের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
অনলাইনে নাগরিকদের তথ্য এভাবে ফাঁস করে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা এবং প্রতিশোধমূলক ও প্রতিহিংসাপরায়ণ সাইবার অপরাধ চালানো অত্যন্ত নিকৃষ্ট ও ঘৃণ্য মানসিকতার পরিচয়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটাতে গিয়ে ব্যক্তি অধিকার ও পারিবারিক নিরাপত্তা এভাবে ক্ষুণ্ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সাইবার স্পেসকে এমন জঘন্য উপায়ে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছে।
পরিস্থিতি এতটা আশঙ্কাজনক হওয়া সত্ত্বেও বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান ও কঠোর কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। রাষ্ট্র যেখানে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিতে দায়বদ্ধ, সেখানে এমন প্রকাশ্য সাইবার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিরবতা নাগরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড রুখে দেওয়ার জোর দাবি উঠে এসেছে।
