নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল ও দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে (৫০) দলীয় পদ থেকে আজীবনের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
অব্যাহতি পাওয়া রফিকুল ইসলাম বকুল কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি ও চরম অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে ভুক্তভোগী যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত, তখন তাকে কৌশল ডেকে নিয়ে প্রথম ধর্ষণ করা হয় এবং গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বকুল ও তার সহযোগীরা তাকে বারবার ব্ল্যাকমেইল ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। এই অন্যায়ের ধারাবাহিকতায় একপর্যায়ে কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে মেয়েটি আরও কোনো কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় সেই আপত্তিকর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে গত ২৬ আগস্ট মধ্যরাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে প্রধান আসামি করে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার ২ নম্বর আসামি আবু মিয়াকে (৩৬) গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। তবে প্রধান অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বকুল বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, পলাতক মূল অভিযুক্তসহ বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের জোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
