মার্কিন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল আমদানি করে যাচ্ছে। চীনের স্বাধীন ও বড় বড় তেল শোধনাগারগুলো প্রতিনিয়ত এই বিশাল পরিমাণ ইরানি তেল গ্রহণ করছে, যার সরবরাহের গতি গত বছরের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিষেধাজ্ঞা এড়াতে চীন এবং ইরান নানা কৌশল অবলম্বন করছে। মূলত মালয়েশিয়ার সীমান্তবর্তী আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় গোপন শিপ-টু-শিপ (এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে) তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে তেলের উৎস গোপন করা হচ্ছে। এছাড়া মার্কিন ডলার এড়িয়ে চীনা মুদ্রা ইউয়ান এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যের অর্থ পরিশোধের মতো বিকল্প মাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে বড় বড় চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ওপর এখনো কোনো বড় ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। ওয়াশিংটনের এই নমনীয় অবস্থান আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে ওয়াশিংটন দুই দেশের চলমান ভঙ্গুর কূটনৈতিক সম্পর্ক নষ্ট করার ঝুঁকি নিতে চাইছে না। মূলত বাইডেন প্রশাসন এই মুহূর্তে বেইজিংয়ের সাথে সম্পর্কের আরও অবনতি এড়াতেই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কিছুটা কৌশলগত শিথিলতা দেখাচ্ছে।
