জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক মো. সারজিস আলম বলেছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির গঠনমূলক সমালোচনা করা হলে সেটিকে দলটির বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বিএনপি যদি ধীরে ধীরে লাইনচ্যুত হয়ে ব্যর্থতার দিকে এগিয়ে যায়, তবে তার ক্ষতি শুধু দলটির একক হবে না, বরং পুরো দেশের জন্যই মারাত্মক ক্ষতিকর হবে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুর প্রেসক্লাবে এনসিপির জেলা শাখার সাংগঠনিক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম জানান, কোনো একটি প্রধান দলের রাজনৈতিক ভুল বা ব্যর্থতার প্রভাব শেষ পর্যন্ত দেশের পুরো রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর গিয়ে পড়ে। তাই বিএনপির উচিত এতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে নিজেদের ভুল-ত্রুটি শুধরে নেওয়া। এনসিপি ইতোমধ্যে সরকারের ১৮০ দিনের আমলনামা দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরেছে এবং সংসদে ও সংসদের বাইরে সর্বদা গঠনমূলক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, সংসদে কিংবা বাইরে লোকদেখানো বুলি বা বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে বাস্তবে কাজ করে দেখাতে হবে। স্বরাষ্ট্রের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকেও যদি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা আসে, তবে সেই ব্যর্থতা থেকে বেরিয়ে আসার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সাথে মন্ত্রীদের নিজ নিজ দপ্তরের সঠিক তথ্য ও প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করার আহ্বান জানান তিনি, অন্যথায় জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহি প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
দেশের সমসাময়িক সহিংসতা প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি একজন শিক্ষককে নির্মমভাবে হত্যা এবং সারাদেশে ঘটে চলা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে এসব অপরাধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে কঠোর বিচার নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।
ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির এই নেতা বলেন, মূল হত্যাকারীদের ভারতে গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে সংসদে কেবল কথা বলা হচ্ছে, যা স্পষ্ট নয় এবং এতে ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব নয়।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য সরোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ, সালেহ উদ্দিন সিফাতসহ কেন্দ্র ও চাঁদপুর জেলা-উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
