ইসলামী ব্যাংকের সামনে এস আলমের সময় নিয়োগ পাওয়া চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াও হয়। উভয় পক্ষের দাবি অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত ৫৫ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরে সেখানে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি নুর উন নবী মানিক দাবি করেন, তাদের সংগঠনের প্রায় ৩০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যাংকটিকে ঘিরে নতুন করে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তারা অবস্থান নিয়েছেন। আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলাম। এ সময় পুলিশের ছত্রচ্ছায়ায় আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। আরও ২৫ থেকে ৩০ জন চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছেন। পরিকল্পিতভাবে যারা হামলা করেছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’
অন্যদিকে, চাকরিচ্যুতদের পক্ষ থেকে ২৫ জনের আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। তাদের একজন শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলাম। আজ কর্মসূচি শুরুর প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা আমাদের ওপর হামলা চালান। পরে পুলিশ আমাদের সরিয়ে দেয়। আহতদের মধ্যে ২০ থেকে ২৫ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।’
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মহসীন আল মুরাদ বলেন, ‘সকালের ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। বর্তমানে চাকরিচ্যুতরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান করছেন। যেহেতু এটি একটি কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান, তাই তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়েছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।’
