চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জামালুল আকবর চৌধুরীকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছেন হল সংসদের নেতারা ও শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাঁর কক্ষ ও হল অফিসে বাইরে থেকে তালা দেওয়া হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে তালা খুলে দেওয়া হলে প্রাধ্যক্ষ হল ত্যাগ করেন।
হল সংসদের নেতাদের অভিযোগ, হলের উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি না হওয়া, আবাসনসহ বিভিন্ন সংকটের সমাধান না করা এবং শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে প্রাধ্যক্ষের অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এ বিষয়ে ১৭৮ শিক্ষার্থী এবং ৩৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
হল সংসদের সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, হলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রাধ্যক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেননি। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অপমান ও অপদস্থ করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক জামালুল আকবর চৌধুরী। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে তাঁকে আগে কিছু জানানো হয়নি। অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হলে তিনি তা সমাধানের চেষ্টা করতেন।
চলতি বছরের ৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাওল হলের প্রাধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন ইতিহাস বিভাগের এই অধ্যাপক। তাঁর দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর হলের আবাসনসংকট, ডাইনিং, খেলাধুলা ও সংস্কারকাজে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। অবৈধভাবে হলে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করায় তাঁর বিরুদ্ধে খারাপ আচরণের অভিযোগ আনা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
কক্ষে তালা দেওয়ার বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ বলেন, দাপ্তরিক কাজে হলে আসার পর তাঁকে কক্ষে রেখে বাইরে থেকে তালা দেওয়া হয়। তাঁর ভাষায়, কারও অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ তাঁর সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে এভাবে আটকে রাখাকে তিনি ‘মব কালচার’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ঘটনাটিকে আইনসংগত ও ন্যায়সংগত নয় বলে মন্তব্য করেন।
প্রশাসনের আশ্বাসে তালা খুলে দেওয়া হয়
দুপুর একটার দিকে তালা দেওয়ার পর প্রায় আড়াই ঘণ্টা কক্ষের ভেতরে অবস্থান করেন প্রাধ্যক্ষ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থী ও হল সংসদের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে।
সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক কামরুল হোসেন জানান, শিক্ষার্থী ও হল স্টাফদের পক্ষ থেকে উপাচার্যের কাছে দুটি দাবিনামা দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই আবাসিক শিক্ষকের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় উপাচার্য শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন, তাঁদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রশাসনের এই আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষের কক্ষ ও হল অফিসের তালা খুলে দেন।
পরে প্রক্টরের গাড়িতে করে হল থেকে বের হয়ে যান অধ্যাপক জামালুল আকবর চৌধুরী।
