কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারের এক সাম্প্রতিক নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় দাড়ি রাখার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা ৪৭ জন মুসলিম কর্মী ও হোমগার্ডের আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার অফ পুলিশ (হেডকোয়ার্টার্স)-এর স্বাক্ষরিত মেমো অনুযায়ী, আবেদনকারীদের মধ্যে দুটি ধাপে (প্রথম দফায় ৩০ জন এবং দ্বিতীয় দফায় ১৭ জন) পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ—যেমন ব্যাটালিয়ন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট এবং ট্রাফিক ইউনিটের কর্মীরা ছিলেন। অনেকে ধর্মীয় অনুশাসনের কথা উল্লেখ করে অনুমতি চাইলেও লালবাজারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাহিনীর পোশাকের একরূপতা ও বিভাগীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় দাড়ি রাখার বিদ্যমান কঠোর নিয়ম অপরিবর্তিত থাকবে।
সব ইউনিটের প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের এই সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন এবং নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিভাগীয় নিয়মনীতি এবং ব্যক্তিগত ধর্মীয় আচরণের মধ্যকার ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট হিসেবে ১৯৪৩ সালের ‘পুলিশ রেগুলেশন অফ বেঙ্গল’-এর কথা উঠে আসছে। এই নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০০২ সালে মুর্শিদাবাদের এক কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে সংখ্যালঘু কমিশনের হস্তক্ষেপে সেই বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। বর্তমানে পুলিশের প্রশাসনিক শৃঙ্খলার স্বার্থে এই পুরোনো প্রবিধানই পুনরায় কার্যকর রাখার ওপর জোর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
