পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাবার ধর্মীয় পরিচয় ও পেশা নিয়ে করা দাবি তথ্য-উপাত্তের আলোকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, জিন্নাহর বাবা কখনোই হিন্দু ছিলেন না, বরং তিনি জন্মসূত্রে একজন মুসলিম ব্যবসায়ী ছিলেন।
‘ব্রিটেনিকা’ ও বিশ্বখ্যাত ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র অনুযায়ী, জিন্নাহর বাবার নাম ছিল জিন্নাহভাই পুঞ্জা। তিনি গুজরাটের কাথিয়াওয়ার থেকে ব্যবসায়িক সূত্রে করাচিতে স্থানান্তরিত হন এবং টেক্সটাইল, শস্য ও আন্তর্জাতিক শিপিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এক সমৃদ্ধশালী ব্যবসায়ী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তৎকালীন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ‘গ্রাহাম শিপিং অ্যান্ড ট্রেডিং’-এর তিনি অন্যতম অংশীদার ছিলেন। ফলে তাঁকে মাছ বিক্রেতা হিসেবে উপস্থাপন করাকে ইতিহাসের চরম বিকৃতি বলে মনে করছেন ইতিহাস বিশ্লেষকেরা।
ধর্মীয় দিক থেকে জিন্নাহর পরিবার কয়েক প্রজন্ম আগে থেকেই ইসলামের অনুসারী ছিল এবং তারা গুজরাটের শিয়া মুসলিমদের ‘খোঁজা’ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ডি. এন. পানিগ্রাহী তাঁর গবেষণায় উল্লেখ করেছেন, জিন্নাহর দাদা পুঞ্জা মেঘজি হিন্দু লোহানা পরিবার থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তবে জিন্নাহর বাবা জন্মসূত্রে কট্টর মুসলিম ছিলেন এবং সন্তানদের কোরআন শিক্ষাসহ রক্ষণশীল ইসলামিক নিয়মে বড় করেন।
একইভাবে ঐতিহাসিক স্ট্যানলি ওলপার্ট তাঁর ‘জিন্নাহ অফ পাকিস্তান’ গ্রন্থে স্পষ্ট করেছেন যে, ১৮৭৬ সালে জিন্নাহর জন্মের সময় তাঁর বাবা জিন্নাহভাই পুঞ্জা করাচির এক সুপরিচিত মুসলিম ব্যবসায়ী ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও লোককাহিনিতে জিন্নাহর পূর্বপুরুষদের ধর্মান্তর নিয়ে নানামুখী প্রচারণা থাকলেও, জিন্নাহর নিজের বাবা হিন্দু ছিলেন না—বিষয়টি ঐতিহাসিক তথ্যে সম্পূর্ণ সুস্পষ্ট।
