ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের অর্থায়নে এবং স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত মৃতদেহ গোসলঘরের কাজ নিজের নামে ফলক লাগিয়ে উদ্বোধন করার অভিযোগ উঠেছে টেকনোক্র্যাট কোটায় মনোনীত ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিহারী সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এমপি কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের ব্যক্তিগত অনুদান ও জামায়াত নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় উক্ত মৃতদেহ গোসলঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পটির শুরুতেই স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিকবার সহিংসতা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পূর্বে এই নির্মাণকাজ শুরু করার সময় স্থানীয় বিহারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের মতো মারাত্মক ঘটনা ঘটেছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বিহারীদের অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের অনুসারী ও সশস্ত্র সমর্থকরা সে সময় গোসলঘর নির্মাণে বাঁধা দিতেই ওই হামলা ও গুলি চালিয়েছিল। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিহারী জনগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক, সামাজিক উত্তেজনা ও সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
তবে সেই বিতর্কিত ও সহিংস পরিস্থিতি পার করে অবশেষে মৃতেদেহের গোসলঘরটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। নির্মিত স্থাপনাটি চালুর পর দেখা যায়, অতীতে নির্মাণকাজে বাধা ও হামলার পেছনে অভিযুক্ত প্রতিমন্ত্রীর নামফলক বসিয়েই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজের নেমপ্লেট টানানো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এর আগে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের শিকার হওয়া বিহারী সম্প্রদায়ের অনেকে এবং প্রকল্পটির অর্থায়নকারীদের মতে, মূল অর্থায়ন ও চরম বাধার মুখে শুরু হওয়া উন্নয়ন কাজ শেষ হওয়ার পর এভাবে রাজনৈতিক প্রভাব খাঁটিয়ে উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রকৃত উদ্যোগকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
