ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ১৬ বছর বয়সী সন্তানকে অস্ত্রের মুখে বেঁধে রেখে এক প্রবাসী স্ত্রীকে (৩৮) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ঘটনাটি যাতে কাউকে না জানানো হয় সেজন্য ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করার পাশাপাশি নগদ ৫ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়েছে অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে রাজিব মিয়া (২৩) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চরমছলন্দ কালিবাড়ির চর গ্রামে এই নৃশংস ঘটনার ঘটে। পরদিন শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিজেই পাঁচজনকে আসামি করে গফরগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে স্থানীয় শরিফ মিয়া ও আরিফ হোসেন নামের দুই সহোদর ভাইসহ ফাহিম, রাজিব ও এনামুল নামের মোট পাঁচজন যুবক প্রবাসীর বাড়িতে যায়। সেখানে খাবার পানি চাওয়ার বাহানায় গৃহবধূর ১৬ বছর বয়সী স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে ঘর থেকে ডেকে বের করে অস্ত্রের মুখে বেঁধে ফেলে। এরপর ছেলেকে জিম্মি রেখে শরিফ ও আরিফ ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং রাজিব মোবাইল ফোনে এর দৃশ্য ধারণ করে রাখে।
ধর্ষণ শেষে অভিযুক্তরা ওই ঘরের ভেতর থেকে নগদ ৫ লাখ টাকা, এক ভরি স্বর্ণের চেইন এবং দুই জোড়া কানের দুল লুট করে চম্পট দেয়। পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করে এবং পুলিশে খবর দেয়।
খবর পেয়ে গফরগাঁও থানা-পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে কালিবাড়ীচর এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থান থেকে রাজিবকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় রাজিব তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পানিতে ফেলে দিলে পুলিশ তা উদ্ধার করে। তবে বাকি চার অভিযুক্ত এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান সেখ জানান, ভুক্তভোগী গৃহবধূকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পলাতক অন্য চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
