কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দম্পতির একমাত্র ছেলে শিশু অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত মো. তুহিনের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরির পুরোনো অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আগে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের তৎকালীন গাফিলতি ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের কারণে তুহিন পার পেয়ে গিয়ে পরবর্তীতে এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সাহস পেয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী যুবক।
আসাদুল্লাহ সোহাগ নামের ২১ বছর বয়সী ওই যুবক শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের এপ্রিলে সুকৌশলে তাঁর ২ লাখ ৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল হাতিয়ে নেন তুহিন। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে পুলিশ কোনো মামলা না নিয়ে কেবল একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করে এবং রাজনৈতিক নেতার ছায়াতলে থাকা তুহিনের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপে যেতে অস্বীকৃতি জানায়।
সোহাগ তাঁর ফেসবুক পোস্টে জিডির কপি শেয়ার করে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, সেসময় পুলিশের দায়িত্বহীনতার কারণেই আজ ‘চোর তুহিন’ অপরাধের চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে ‘খুনি তুহিন’-এ রূপ নেওয়ার সাহস পেয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তুহিনের মাথার ওপর বড় এক রাজনৈতিক নেতার হাত রয়েছে, তাই তাকে যেন কোনো ঝামেলায় না ফেলা হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের করা অভিযোগে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল রাতে সোহাগের কাছ থেকে বাইকটি চতুরতার সাথে নিয়ে আর ফেরত দেয়নি তুহিন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ-দরবার করেও ব্যর্থ হলে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল, তবে পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনদের অভিমত, চুরির মতো ছোট অপরাধের সময়ই যদি পুলিশ তুহিনের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করত, তবে অপ্রতিমের মতো নির্দোষ কিশোরের প্রাণপ্রদীপ এভাবে অকালে নিভে যেত না।
