রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর প্রাইভেসির গুরুতর লঙ্ঘন, অনলাইন ট্রলিং এবং মানসিক নিপীড়ন নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
গোপন ভিডিও ফুটেজ ফাঁসের পর থেকে ১৯ বছর বয়সী এই তরুণীকে যেভাবে সামাজিক ও সাইবার বুলিংয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে, সেই মানসিক চাপই তাকে এমন মর্মান্তিক পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো প্রতিক্রিয়া ও নেটিজেনদের একাংশের মতে, স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও বেআইনিভাবে ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার পর নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মিডিয়া ও সুশীল সমাজের একমুখী ট্রলিং একটি মেয়ের জীবনকে বিভীষিকাময় করে তুলেছিল। এমপির নৈতিক স্খলন বা রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিপুল চর্চা হলেও মাঝখান থেকে প্রাইভেসির চরম লঙ্ঘনের শিকার তরুণীটির মানসিক অবস্থা ও চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।
ঘটনার নেপথ্য খতিয়ে দেখতে গিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—মূলত কারা হোটেল রুমে ঢুকে এই ভিডিও ধারণ করেছিল এবং তা সামাজিক মাধ্যমে ফাঁস করেছিল? ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার ও মৌলিক মানবাধিকার হরণ করে এভাবে একজন তরুণীকে সামাজিকভাবে অপদস্থ করার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকেই চরম মূল্য দিতে হলো বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।
ওবায়দুর রহমান গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক। তিনি নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের মামা। এই মামাই মূলত সেই রুমে ক্যামেরা সেট করে রেখেছিলেন বলে জানতে পারা যায়। ওবায়দুর রহমান নিজেও এক সংবাদ মাধ্যমে এই কথা শিকার করেন।
উল্লেখ্য, ঘটনায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা থাকলেও তিনি পদমর্যাদা ও আইনি প্রক্রিয়ায় বহাল রয়েছেন। তবে পুরো ঘটনার প্রধান শিকার (ভিক্টিম) হয়ে জীবন দিতে হলো ১৯ বছর বয়সী মরিয়মকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, লাশ সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে হয়রানি ও সার্বিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
