ধারাবাহিক রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের অবশিষ্ট তিনটি প্রধান ইস্পাত কারখানা ধ্বংস হওয়ার মাধ্যমে দেশটির ঐতিহাসিক ইস্পাত শিল্প কার্যত পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আগস্টের পর থেকে রাশিয়ার একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জাপোরিঝস্তাল, কামেতস্তাল ও আর্সেলরমিত্তাল ক্রিভি রিহ কারখানা তিনটির অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান খনন ও স্টিল উৎপাদনকারী জোট মেটিনভেস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এসব হামলার পর ইউক্রেনে সচল কোনো ইস্পাত শিল্প বা কারখানা আর অবশিষ্ট নেই। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে দেশে বার্ষিক ২ কোটি ১০ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদিত হতো, ২০২৫ সালে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে ৭৪ লাখ টনে নেমে আসে এবং গত আগস্টেই উৎপাদন আরও ৫৭ শতাংশ ধসে পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, একসময় ইউক্রেনের মোট জিডিপিতে প্রায় ৭ শতাংশ এবং সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে ১৫ শতাংশ অবদান রাখা এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতটির অবদান এখন শূন্যের কোঠায় ঠেকেছে।
অবশ্য সাম্প্রতিক রুশ সামরিক হামলার আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোটা হ্রাস, কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলো বন্ধ থাকা এবং প্রয়োজনীয় কোকিং কয়লার চরম সংকটের কারণে ইউক্রেনীয় ইস্পাত শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই অস্তিত্ব সংকটে ভুগছিল। সেপ্টেম্বরের ধ্বংসযজ্ঞে খাতটি সম্পূর্ণ নিভে গেল।
