প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ধারাবাহিক বৃদ্ধি, বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং রিজার্ভ বাড়ার প্রভাবে মার্কিন ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। টানা সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে বর্তমানে ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে দেশের মুদ্রা, যা বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতার নতুন পরিবেশ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে প্রতি ডলারের দাম ছিল ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা, যা ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় পৌঁছায়। তবে চলতি বছরের আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে টাকার মান শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকায় নেমে এসেছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর ধরে টাকার মূল্যমান কমার প্রবণতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এলো।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৭ দশমিক ৭০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। গত ৮ সেপ্টেম্বর দেশের মোট রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে, আর বিপিএম৬ (BPM6) পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারে।
আর্থিক খাতের বিশ্লেষক ও এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া জানান, টাকা শক্তিশালী হওয়ায় জ্বালানি, খাদ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কমবে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, হুন্ডি ও অর্থপাচার রোধে নিবিড় নজরদারির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে অতিরিক্ত ডলার কিনে রিজার্ভ পুনর্গঠন করছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের আস্থা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
