কিশোরী মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে অসংগত সম্পর্ক, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন ও অনৈতিক প্রভাবে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পদে বহাল থাকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি অবিলম্বে তার পদ সংক্রান্ত বিষয়ে সংসদ ও নির্বাচন কমিশনকে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, দলীয় তদন্তে ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হয়ে দল থেকে বহিষ্কার, ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের অভিযোগ এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলায় এমপি ও তার প্রথম স্ত্রীর রিমান্ডের পরও পদ বহাল থাকা সংসদীয় ব্যবস্থার মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ফৌজদারি অপরাধের বিচার আদালত করলেও একজন জনপ্রতিনিধির নৈতিকতা ও জাবাবদিহির চূড়ান্ত দায় সংসদকেই নিতে হবে।
সংস্থাটি সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে স্পষ্ট করে, কোনো সংসদ সদস্যের আদালত কর্তৃক অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ড না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদ বাতিলের সাংবিধানিক অযোগ্যতা তৈরি হয় না। তবে সাজা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই এমন গুরুতর নৈতিক স্খলন, স্বার্থের সংঘাত কিংবা সংসদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী আচরণের ক্ষেত্রে পার্লামেন্ট কী আইনি পদক্ষেপ নেবে—তা দ্রুত স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া জনপ্রতিনিধিদের অনিয়ম ও সেক্সটরশন বন্ধে বাধ্যতামূলক ‘নৈতিক আচরণবিধি’ প্রণয়নের বহু পুরোনো দাবির পুনরুত্থান ঘটায় সংস্থাটি। ২০১০ সালে প্রস্তাবিত ‘দ্য মেম্বার্স অব পার্লামেন্ট কনডাক্ট বিল’ আইন হিসেবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে টিআইবি প্রশ্ন তোলে—জাতীয় ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও এত বছরেও সংসদ সদস্যদের জন্য কার্যকর কোনো আচরণবিধি কার্যকর না হওয়ার কারণ কী।
