ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন করে পাল্টা আঘাত ও চমকে দেওয়ার মতো সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে কোনো আক্রমণ চালায়, তবে ইরানের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা হামলার কৌশলে ‘বড় ধরনের পরিবর্তন’ আসবে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোহেবি জানান, নতুন এই সামরিক পরিবর্তনের মধ্যে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর এবং ব্যবহৃত অস্ত্র ও সরঞ্জাম—উভয় ক্ষেত্রেই অভাবনীয় সংযোজন থাকবে। তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন সক্ষমতার আধুনিক অস্ত্র নিয়ে আসব, যা বিশ্বকে বিস্মিত করবে। একই সঙ্গে আমাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু আগের মতো থাকবে না; এমন সব নতুন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হবে, যা এখনো স্পর্শ করা হয়নি।”
মোহেবি আরও দাবি করেন, চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ইরানের কাছে ‘ঐতিহাসিক ও অপমানজনক’ পরাজয় বরণ করেছে, তবে ওয়াশিংটনের সেই সত্য মেনে নেওয়ার সাহস নেই। এই পরাজয়ের অন্যতম প্রমাণ হিসেবে তিনি হরমুজ প্রণালির প্রসঙ্গ টেনে আনেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ বন্ধ করে দেয়, যা সম্পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো খুলতে সক্ষম হয়নি।
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থাপিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নিরাপত্তার পরিবর্তে বড় ধরনের বোঝায় পরিণত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র। তিনি জানান, উপসাগরীয় অঞ্চল ও উত্তর ইরাকে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কেন্দ্রগুলোতে ইরানের সফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলাই প্রমাণ করে যে মার্কিন স্থাপনাগুলো তাদের নাগালের বাইরে নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের গোয়েন্দা ব্যর্থতা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
