২০২৬ সালের পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) মোট ৫২৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা খরচ করেছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া দলের নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, মোট খরচের অর্ধেকেরও বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই।
হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির মোট ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮৭ কোটি টাকা (২৮৬.৯৯ কোটি), যা পাঁচ রাজ্যের মোট খরচের প্রায় ৫৪ শতাংশ। এর মধ্যে ২১৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে দলের সাধারণ নির্বাচনি প্রচারে এবং প্রার্থীদের পেছনে সংস্থান করা হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, যার বড় একটি অংশ সরাসরি প্রার্থীদের প্রচারের জন্য বরাদ্দ ছিল।
পশ্চিমবঙ্গের বাইরে অন্য চার রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিজেপির নির্বাচনি ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৪২ কোটি টাকা। এর মধ্যে আসামে দলটির খরচ হয়েছে ৯৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা, কেরালায় ৮২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, তামিলনাড়ুতে ৫১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা এবং পুদুচেরিতে ব্যয় হয়েছে ১১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, পুরো নির্বাচনি পর্বে বিজেপির প্রাপ্তির পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষে ব্যাংক ও নগদ তহবিল মিলিয়ে দলটির কাছে জমা থাকা অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ হাজার ৬৮৯ কোটি ৬ লাখ টাকা।
উল্লেখ্য, নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের খরচের নির্দিষ্ট সময় ও সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এমন কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। নিয়ম অনুযায়ী, দলগুলো তাদের সভা-সমাবেশ, যাতায়াত, প্রচারসামগ্রী ও বিজ্ঞাপনের বিস্তারিত নথি জমা দিলে সেই আর্থিক চিত্র প্রকাশ্যে আসে, যেখানে ২০২৬ সালের ভোটে বিজেপির কাছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক গুরুত্বের একটি বড় আর্থিক প্রমাণ মেলে।
