জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে আইনি কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে ব্যরিস্টার জাইমা রহমান। তবে এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন করে চর্চায় এসেছে অতীতে ড. খলিলুর রহমানকে নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের তোলা একাধিক কঠোর রাজনৈতিক বক্তব্য।
পরবর্তী ঘটনাক্রমে ড. খলিলুর রহমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেও, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাকাকালীন তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিএনপি নেতৃত্বের তীব্র আপত্তি ছিল। গত বছরের মে মাসে (২০২৫) বিএনপির তৎকালীন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব (বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব) রুহুল কবির রিজভী এক সংবাদ সম্মেলনে ড. খলিলুর রহমানের পদত্যাগ দাবি করে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।” সে সময় মানবিক করিডর প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু কর্মকাণ্ড দেশকে অস্থিতিশীল ও অনিরাপদ করে তোলার ঝুঁকি তৈরি করছে।
একই সময়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য (বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সালাহউদ্দিন আহমেদও তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কীভাবে একজন বিদেশি নাগরিকত্ব ধারণকারী ব্যক্তিকে দেশের অত্যন্ত সংবেদনশীল জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেওয়া হলো এবং তিনি সামরিক বা নিরাপত্তাজনিত রিপোর্টিং প্রক্রিয়ায় কীভাবে যুক্ত থাকেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের এই নাটকীয় পরিবর্তনের মাঝেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির মোট ৪০ সদস্যের আন্তর্জাতিক টিমে স্থান পেয়েছেন ব্যরিস্টার জাইমা রহমানসহ ছয়জন বাংলাদেশি। জাইমা রহমান লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন ও যুক্তরাজ্য থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করার পাশাপাশি সম্প্রতি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপও উত্তীর্ণ হয়েছেন।
একসময় বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে যাঁর নীতি ও নিয়োগ নিয়ে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন তুলে পদত্যাগ দাবি করা হয়েছিল, পরবর্তীতে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সরকারে দায়িত্ব নেন। এখন জাতিসংঘে সেই ড. খলিলুর রহমানের আন্তর্জাতিক দপ্তরেই বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবারের সদস্য হিসেবে লিগ্যাল অফিসার পদে দায়িত্ব গ্রহণ করায় বিষয়টিকে রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক কৌতূহলোদ্দীপক মোড় হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
