মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বহুল আলোচিত তিন দিনের জমকালো রাষ্ট্রীয় সফর সম্পন্ন হয়েছে। হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের শীর্ষ বৈঠকের পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে একটি বিশেষ সরাসরি ‘যোগাযোগ মাধ্যম’ বা চ্যানেল খুলতে সম্মত হয়েছে বিশ্ব পরাশক্তি দুটি।
শীর্ষ বৈঠকে প্রযুক্তি সংঘাত, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক নানা সংকট নিয়ে দুই নেতার মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হয়। আলোচনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নভেম্বরে শেষ হতে যাওয়া বাণিজ্য চুক্তির সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে বাণিজ্য বিরোধ নিরসনে আরও সময় পাওয়া যায়। চুক্তির অংশ হিসেবে আগামী দুই বছরে অন্তত ১ কোটি মেট্রিক টন মার্কিন কয়লা আমদানি করবে চীন এবং ৩ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে পারস্পরিক শুল্ক ছাড় দেওয়া হবে।
বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। একই সাথে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের গতিপথকে ‘সুস্থ প্রতিযোগিতা’ হিসেবে দেখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তির সঠিক ও দায়িত্বশীল পরিচালনায় দুই দেশেরই বড় ভূমিকা রয়েছে। সৌজন্যতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চিড়িয়াখানায় চীন থেকে দুটি পান্ডা উপহার দেওয়ার ঘোষণাও আসে।
সফর জুড়ে ছিল সামরিক কুচকাওয়াজ, জমকালো রাষ্ট্রীয় ভোজসভা এবং ঐতিহাসিক দলিল প্রদর্শনী। বৈঠক শেষে ট্রাম্প জানান, এই সফর সি চিন পিংয়ের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই সফরকে খুব বড় কোনো অলৌকিক অগ্রগতি না বললেও দুই পরাশক্তির আলোচনার পথ খোলা রাখাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। আগামী নভেম্বরে চীনের শেনজেনে এপেক (APEC) সম্মেলন এবং ডিসেম্বরে মিয়ামিতে জি-২০ সম্মেলনে আবারও মুখোমুখি হবেন দুই নেতা।
