বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম অভিযোগ করেছেন, জুলাই বিপ্লবের দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও গণহত্যার বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিচারকাজ দীর্ঘসূত্রতায় ফেলেছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মতো জ্বলন্ত সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কৃত্রিম অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
শনিবার দুপুরে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ইসলামী ছাত্রশিবির বড়লেখা উপজেলা শাখা আয়োজিত ‘শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং দেশব্যাপী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিরুদ্ধে’ অনুষ্ঠিত এক বিশাল ছাত্র গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পৌর শহরের বড়লেখা দক্ষিণ বাজারস্থ নূরজাহান শপিং সেন্টারের সামনে এই গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করে শিবির সভাপতি বলেন, তারা আজ পুরো জাতিকে নানা ‘কার্ডে’র আশ্বাস দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। তবে ছাত্রদল যদি ক্যাম্পাসে সহিংসতা, পেশিশক্তি ও সন্ত্রাসের পথ বজায় রাখে, তবে তাদেরও পতনে বিলীন হওয়া ছাত্রলীগের মতো একই করুণ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জোরপূর্বক ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গন দখলের রাজনীতি বাংলাদেশে আর কোনোদিন চলবে না।
সরকারের প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা ও মূল্যস্ফীতির সমালোচনা করে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম আরও বলেন, জ্বালানির চরম মূল্যবৃদ্ধি, তীব্র গ্যাস সংকট এবং জনজীবনের ভোগান্তি লাঘবে সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট নজর নেই। ইসলামী ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার আদায়, গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা এবং ছাত্র সংসদগুলোকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের মূল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বদা রাজপথে থাকবে।
উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি নোমান আহমদের সভাপতিত্বে এবং উত্তর শাখা সভাপতি হানজালা আহমদের সঞ্চালনায় উক্ত গণজমায়াতে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। এ ছাড়া মৌলভীবাজার-১ আসনের সাবেক জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলার জামায়াত-শিবিরের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এতে বক্তব্য প্রদান করেন।
