রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও জবরদখল, কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি বলেছে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য এগুলো অশনিসংকেত। একই সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সারাদেশে দলীয়ভাবে আত্মশুদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখলের ঘটনাকে বিব্রতকর দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র ও অসহায় মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে পুলিশের উপস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, হাটবাজার, ক্যাবল ও ইন্টারনেট ব্যবসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব অভিযোগের কথা গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, এসব কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দলের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও বিরোধ অনেক ক্ষেত্রে সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। তার মতে, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং ক্রিয়েটিভ স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাকে একই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কঠোর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও কার্যকর আইনগত পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না—এমন অভিযোগও তিনি করেন।
তার ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশঙ্কা তৈরি হবে। এজন্য সংঘটিত প্রতিটি ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে টিআইবি।
