ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একাংশ ভাঙার উদ্যোগ রুখে দিতে গভীর রাতেও শত শত মুসলিম জনতা মসজিদ চত্বরে অবস্থান নিয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘মাকতুব’-এর বরাতে জানা গেছে, প্রশাসনের বুলডোজার বাইরে প্রস্তুত থাকলেও মানুষের ব্যাপক ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের উচ্ছেদ বা ভাঙার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
-
রাতভর অবস্থান: সম্ভাব্য উচ্ছেদ ও আংশিক ভাঙার আশঙ্কায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এলাকার মুসলিমরা মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রাত কাটাচ্ছেন। তাদের মতে, ঐতিহাসিক এই মসজিদ রক্ষায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান ছাড়া এই মুহূর্তে তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।
-
প্রশাসনের পরিকল্পনা ও বিতর্ক: ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলাকে সামনে রেখে উজ্জয়নে সড়ক সম্প্রসারণের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় খাজর ওয়ালি মসজিদ থেকে গণেশ চৌক পর্যন্ত প্রায় ৭৩০ মিটার সড়ক প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার জেরে ২৭২টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা।
-
শাহী মসজিদের যে অংশগুলো ঝুঁকিতে: প্রস্তাবিত ভাঙার তালিকায় রয়েছে শাহী মসজিদের নামাজের হল বা জামাতখানার একটি অংশ, প্রায় ১২০ ফুট উচ্চতার একটি মিনার এবং মাজার চৌক শাহী নামে পরিচিত অংশ। মুসলিম পক্ষের দাবি, এগুলো শুধু কাঠামোগত অংশই নয়, বরং মসজিদের দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক।
-
আইনি লড়াই ও সুপ্রিম কোর্টের প্রস্তুতি: মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট সম্প্রতি পৌর করপোরেশনের নোটিশের বিরুদ্ধে করা আবেদনগুলো খারিজ করে প্রশাসনের পক্ষেই রায় দিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটসের’ আইনজীবী জায়েদ পাঠান জানিয়েছেন যে, নুমাইন্দা কমিটি রায়টিকে চ্যালেঞ্জ করে ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে প্রাচীন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর ক্ষতি এড়ানোর দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আইনি সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে এই ঐতিহাসিক মসজিদের ভবিষ্যৎ।
