চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভাটিয়ারী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম মাহমুদকে রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে দলেরই কোন্দলকারী অপর পক্ষ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় ভাটিয়ারী বিজয় স্মরণি কলেজ গেট এলাকায় ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল হোসেন রবির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ৮ থেকে ১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল রড ও লাঠিসোটাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিতে রবিউলের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। সেখানে উপস্থিত ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সেলিম মাহমুদকে ঘিরে ধরে তাঁরা এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। এতে গুরুতর আহত হলে তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হামলার শিকার সেলিম মাহমুদের দাবি, ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর দলের নাম ভাঙিয়ে ‘সেভেন স্টার’ নামে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ এলাকায় মাদক ব্যবসা, লুটপাট ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিল। তিনি ও তাঁর সমর্থকেরা এই অপকর্মের প্রতিবাদ করার কারণেই তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। অভিযুক্তদের অতীতেও চাঁদাবাজির দায়ে জেল খাটার রেকর্ড রয়েছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. কফিল উদ্দিন পাল্টা অভিযোগ এনে বলেন, যুবদলের নাম ভাঙিয়ে সেলিম নিজেই স্থানীয় শিল্পকারখানায় নিয়মিত চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসায় জড়িত। বুধবারও তিনি স্থানীয় একটি কারখানা থেকে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন। চাঁদা তুলতে নিষেধ করা সত্ত্বেও তা অমান্য করায় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তাঁকে ‘গণধোলাই’ দিয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ফজলুল করিম চৌধুরী সেলিমের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাঁকে ত্যাগী নেতা দাবি করেন এবং জড়িতদের শাস্তি চান। তবে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম এটিকে আধিপত্য বিস্তারের বিরোধ উল্লেখ করে বলেন, দল কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সমর্থন করবে না। সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
