বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক নানা রাজনৈতিক বক্তব্যে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সহ্যসীমা ক্রমেই অতিক্রম করছে বলে মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, “নেতাকর্মীদের ধৈর্যের সীমা পেরিয়ে গেলে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে, যা মোটেও কাম্য নয়।”
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের বেকিনগর গ্রামে আয়োজিত এক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির’ অংশ হিসেবে স্থানীয় বিএনপি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাদিয়া পাঠান বলেন, দল রুমিন ফারহানাকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বানিয়ে রাজনৈতিক পরিচিতি ও প্ল্যাটফর্ম দিয়েছিল। অথচ এখন তিনি দলের প্রতি চরম অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছরের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীদের ত্যাগের ওপর ভর করে তৈরি করা বক্তব্যই রুমিন ফারহানাকে লিখে দেওয়া হতো এবং তিনি তা মিডিয়ায় পেশ করতেন।
রুমিন ফারহানার নানা রাজনৈতিক বক্তব্যকে কটাক্ষ করে নাদিয়া পাঠান বলেন, “উনি প্রায়ই বলে বেড়ান ‘বাবা-দাদার রাজনীতি ছাড়তে হবে’। কিন্তু উনার নিজের যোগ্যতা থাকলে বারবার বাবার নাম জপতে হয় কেন? রাজনীতিক হিসেবে বড় হতে হয় নিজের যোগ্যতায়, অন্যের ওপর ভর করে নয়।”
এমনকি রুমিন ফারহানার রাজনৈতিক আচরণের সঙ্গে শেখ হাসিনার আচরণের মিল রয়েছে দাবি করে এই নারী সংসদ সদস্য বলেন, শেখ হাসিনা যেভাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে অবান্তর মন্তব্য করতেন, এখন যেন সেই দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন রুমিন ফারহানা। সম্প্রতি তারেক রহমানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তারেক রহমান অপুষ্টিতে ভুগছেন—এমন অবাস্তব কথা উনি কীভাবে বলেন? উনি কি উনার কোনো ব্যক্তিগত চিকিৎসক?”
