রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাণ্ডব, কর্মচারীদের ওপর মারধর ও অর্থ দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যুবদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ৩৫ জনের মত।
রাড্ডা’র মর্মান্তিক ঘটনার ক্ষত ও আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই এবার মধ্যরাতে সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে এমন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর তীব্র পেটের ব্যথা ও অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে যাওয়া সংকটাপন্ন অবস্থায় ১৩ বছরের কিশোরী মহিমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচারের আগেই শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে গাজীপুরে দাফন করেন। অভিযোগ উঠেছে, এই মৃত্যুকে পুঁজি করে রবিবার (৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে শাহজাহানপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের কর্মী পরিচয় দিয়ে শাহরিয়ার সবুজ একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ভুল চিকিৎসার ভুয়া অজুহাত তুলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে সরাসরি ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ওই যুবদল কর্মী ও তাঁর সহযোগীরা। দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করে এবং দ্বিতীয় তলার লেবার রুম ও জরুরি বিভাগে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। যুবদলের এই হামলায় হাসপাতালের অন্তত ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী গুরুতর আহত হন।
একই সময়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ইয়র্ক নিউজ’-এর সাংবাদিক মনিরের ওপরও হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। তাঁকে লাঠি দিয়ে পেটাই করার পাশাপাশি তথ্যপ্রমাণ মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। একের পর এক হাসপাতালে হামলা ও যুবদল নেতাকর্মীদের এমন ক্যাডারভিত্তিক তণ্ডবলীলা সাধারণ রোগী ও চিকিৎসক সমাজকে চরম নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ফেলেছে।
পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করলে শাহজাহানপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে চাঁদাবাজি ও আক্রমণের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত যুবদল কর্মী বহিরাগতদের নিয়ে হামলা চালানোর তথ্য গোপন করার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম জানান, উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
