বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নামে ৭০০ থেকে ৮০০টি রিকশা রয়েছে—এমন প্রচারণার প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে তাঁকে রিকশার মালিক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
শুক্রবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে গোলাম পরওয়ার এসব প্রচারণার জবাব দেন। তিনি বলেন, “৭০০–৮০০ রিকশার মালিক যদি আমাকে কেউ বানিয়ে দেন, তাহলে হাসি-রসিকতা ছাড়া আর কী-ই বা করার আছে! আমি তো বলেছি, ৭০০–৮০০টি রিকশা লাগবে না, সারা বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায়, যেকোনো শহরে আমার নামে একটি রিকশা আছে, এমন প্রমাণও যদি কেউ দিতে পারেন, তা-ই যথেষ্ট।”
জামায়াতের এই নেতা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে নানা বক্তব্য ও প্রচারণা চালানো হলেও সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও বিভাগ তাঁর নামে একটি রিকশারও সন্ধান দিতে পারেনি। তাঁর ভাষ্য, কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনৈতিক আদর্শের মোকাবিলা করতে হয় আদর্শ, চরিত্র ও নৈতিকতার মাধ্যমে। এসব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে কেউ কেউ বিকৃত রুচি, আদর্শহীনতা ও বিবেকবর্জিত আচরণের আশ্রয় নিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভুয়া ফটোকার্ড ও অপপ্রচারের অভিযোগ
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অভিযোগ করেন, কয়েক দিন ধরে ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গোষ্ঠী তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। নিজের কোনো রিকশা নেই দাবি করে তিনি বলেন, তাঁকে ৭০০ থেকে ৮০০টি রিকশার মালিক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যা মানুষের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।
তিনি জানান, প্রথমে এ ধরনের প্রচারণার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন প্রশাসকও একই ধরনের তথ্যের ভিত্তিতে বক্তব্য দেওয়ায় তিনি প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হয়েছেন।
গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন তোলেন, একজন শিক্ষিত, ভদ্র ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ কীভাবে এ ধরনের তথ্য প্রচার করতে পারেন। তাঁর মতে, প্রমাণ ছাড়া এমন বক্তব্য দেওয়া রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার পরিচায়ক।
টকশোতে অসত্য তথ্য প্রচারের অভিযোগ
টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নেওয়া কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অসত্য তথ্য প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, সরকারি দলের ঘনিষ্ঠতা অর্জন কিংবা বিভিন্ন পদ-পদবি ও পদোন্নতির প্রত্যাশায় কেউ কেউ এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন।
তিনি বলেন, রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়ে, আদর্শকে আদর্শ দিয়ে এবং নৈতিকতাকে নৈতিকতা দিয়ে মোকাবিলা করা উচিত। তাঁর মতে, মিথ্যা প্রচারণা ও বক্তব্যের শালীনতার অবনতি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
গোলাম পরওয়ার আরও অভিযোগ করেন, ভুয়া আইডি ও ফটোকার্ড ব্যবহার করে তাঁর পাশাপাশি অন্যান্য সম্মানিত রাজনৈতিক নেতার নামেও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশের আহ্বান
জামায়াতের এই নেতা মনে করেন, এ ধরনের অপপ্রচার ভদ্র, শিক্ষিত, জ্ঞানী ও আদর্শবান ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আসার পথ বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এর ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক চর্চায় সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য তথ্য প্রচারের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, এসব মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে সম্পাদকীয় নীতিমালা ও জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে। ফলে সমাজের সম্মানিত ও গুণী ব্যক্তিদের নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার ছড়িয়ে পড়ছে। এ ধরনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবেক ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসত্য ও বিকৃত তথ্যের কারণে কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন। একই সঙ্গে এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সত্যনিষ্ঠ তথ্যের মাধ্যমে হলুদ সাংবাদিকতা ও অসত্য প্রচারের বিরুদ্ধে যারা কাজ করছেন, তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অপপ্রচার বন্ধ করে সুস্থ রাজনৈতিক চর্চায় ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
