ভারতের বিতর্কিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি করছে বিরোধীদের জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)। উদ্ভূত সংকট নিরসনে ও পরবর্তী আন্দোলনের কঠোর কৌশল নির্ধারণে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নতুন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে মঙ্গলবার বিকেলে দিল্লির ৫, সুনেরি বাগ রোডে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবনে এক গুরুত্বপূর্ণ সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই বৈঠকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শীর্ষ সংসদ সদস্য, আন্দোলনরত ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের যৌথ চায়ের আমন্ত্রণে ডাকা হয়েছে।
এর আগে সোমবার পাঠানো বিশেষ দাওয়াতপত্রে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করে জানান, ‘গণতন্ত্র রক্ষার জন্য পদযাত্রা’ এবং বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন দাখিলের পর এই যৌথ বৈঠক ও চা-চক্র আহ্বান করা হয়েছে। বিকেল ৪টা থেকে শুরু হওয়া এই বৈঠকের সূচনাতেই বিরোধী জোটের নেতারা একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করবেন, যেখান থেকে আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ নিশ্চিত করতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোট এবং ছাত্র-জনতার রাজনৈতিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) একযোগে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টে সরাসরি মামলা দায়ের করেছেন রাহুল গান্ধীসহ অন্য বিরোধী নেতারা। ওই পদযাত্রায় আইসার (AISA) সর্বভারতীয় সভাপতি তথা সিজেপির অন্যতম শীর্ষ মুখ নেহা বোরাও সশরীরে অংশ নিয়েছিলেন।
বিরোধীদের দায়ের করা ওই গুরুত্বপূর্ণ রিট পিটিশনটি মঙ্গলবারই সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে ওঠার কথা রয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতে আইনি লড়াই এবং রাজপথে আন্দোলনকারী তরুণ নেতৃত্বকে এক ছাতার নিচে এনে কেন্দ্রকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করাই এই সভার মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
