সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে বিরাজমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে সৌদি আরবে সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট পরিচালনাকারী সব এয়ারলাইনসকে অবিলম্বে নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন ঘটছে বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় যাত্রীদের নিরাপত্তা, সেবা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে এয়ারলাইনসগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফ্লাইট বিলম্ব, বাতিল কিংবা সময়সূচিতে পরিবর্তন হলে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের দ্রুত অবহিত করতে হবে। এ জন্য এসএমএস, ফোনকল, ই-মেইল, এয়ারলাইনসের ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ প্রয়োজনীয় যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা, পরিবর্তিত যাত্রার সময়, পুনরায় টিকিট বুকিং, অর্থ ফেরত এবং অন্যান্য প্রযোজ্য ব্যবস্থা সম্পর্কে যাত্রীদের স্পষ্ট তথ্য দিতে হবে।
এ ছাড়া ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি কিংবা অভিবাসন-সংক্রান্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে যাত্রীদের সৌদি কর্তৃপক্ষ, ঢাকায় অবস্থিত সৌদি দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে হবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থানরত কিংবা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত না থাকায় বিমানবন্দরে এসে পড়া ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বসার ব্যবস্থা, পানীয় জল, নাশতা, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা দিতে হবে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু, প্রতিবন্ধী এবং ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফ্লাইট পরিচালনায় সৃষ্ট বিঘ্ন মোকাবিলা ও সমন্বয়ের জন্য প্রতিটি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসকে অবিলম্বে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে। ওই কর্মকর্তার নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা দ্রুত বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট বিভাগে পাঠাতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীকে অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা যাবে না। প্রত্যেক যাত্রীর সঙ্গে সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
