ভারতের শাসক দল বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে প্রকাশ্যে ‘সরকার পরিবর্তনের’ (রেজিম চেঞ্জ) স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ও বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী প্রশান্ত ভূষণ। রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরাসরি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও স্বৈরাচারী সরকারের পতন কিংবা শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন চাওয়া দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশান্ত ভূষণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) জাতীয় সভাপতি নেহা বোরা, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (এসএফআই) সহ-সাধারণ সম্পাদক ঐশী ঘোষ এবং জনপ্রিয় ভারতীয় অভিনেতা প্রকাশ রাজ। সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ‘সরকার পতনের ষড়যন্ত্রের’ যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তাকে সরাসরি নস্যাৎ করে দিয়ে প্রশান্ত ভূষণ কড়া ভাষায় বলেন, “হ্যাঁ, আমরা সরকার পরিবর্তন চাই। এতে অপরাধের কী আছে? বিজেপি নিজেই অতীতে বারবার সরকার পতনের আন্দোলন করেছে। যদি কোনো সরকার নির্বাচনী গণতন্ত্র ধ্বংস করতে উদ্যত হয়, তবে সেটির পতন অনিবার্য।”
প্রশান্ত ভূষণ আরও অভিযোগ করেন যে, ব্রিটিশ আমলের দেশদ্রোহ আইনকে সুপ্রিম কোর্ট অসংবিধানিক ঘোষণা করেছিল এই কারণেই, যাতে সরকারবিরোধী আন্দোলন ও নাগরিকের কণ্ঠরোধ করা না যায়। দেশে ভোটার তালিকা থেকে ঢালাও নাম বাদ দেওয়া (এসআইআর বিতর্ক) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে চলা তরুণ ও শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনকে তিনি পূর্ণ সমর্থন জানান।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উন্মোচিত হয়েছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সংশোধন ও এসআইআর বাস্তবায়নে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী অন্তত ১৪ বার তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন। কমিশন সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের যে দাবি করেছিল, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার পর বিরোধীরা মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। নির্বাচনী জালিয়াতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে থাকা আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং বিতর্কিত সকল সিদ্ধান্ত বাতিলের কড়া দাবি জানিয়েছেন।
