কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে সম্প্রতি সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সংগঠনটির কুমিল্লা মহানগরী কমিটি ও ইমারাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে গঠনতন্ত্রের ১৬ নং ধারার ৩ নং উপধারার ‘চ’ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করে ৬৩ নং ধারার ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকার মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতের আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি-এর সভাপতিত্বে এ জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, কুমিল্লা মহানগরী জামায়াত কার্যালয়ে সংঘটিত ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনার পর ছয়টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বৈঠকে কুমিল্লা মহানগরী জামায়াত কার্যালয়ে সংঘটিত ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা শেষে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
১. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ১৬ নং ধারার ৩ নং উপধারার ‘চ’ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করে ৬৩ নং ধারার ক্ষমতাবলে কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সংগঠন ও ইমারাত ভেঙে দেয়া হয়েছে।
২. এখন থেকে কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে কুমিল্লা মহানগরী সংগঠন পরিচালিত হবে।
৩. কুমিল্লা মহানগরী সংগঠন কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।
৪. গত ১৪ অক্টোবরের ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন- সংগঠনের নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান।
উক্ত কমিটি আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে আমীরে জামায়াতের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবেন।
৬. তদন্ত প্রতিবেদন জমার পর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
এর আগে, গত ১৪ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নগরীর মোগলটুলীতে অবস্থিত মহানগর জামায়াত কার্যালয়ে হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মূলধারার কিছু সংবাদমাধ্যম ঘটনাটিকে ‘জামায়াতের অভ্যন্তরীণ দুই গ্রুপের কোন্দল’ হিসেবে প্রচার করলেও পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজে প্রকাশ্যে আসে যে, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানী এই তাণ্ডব চালিয়েছেন। প্রমাণের ভিত্তিতে এবি পার্টিও ইতিমধ্যে সামদানীকে দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে।
