বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগপন্থী ব্যারিস্টারদের এক বার্ষিক ভোজে অংশ নিয়েছিলেন—এমন একটি ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানী ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন ‘বেঙ্গল লেন্স’-এর বিচারে এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক অপপ্রচার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
এই বিভ্রান্তিকর প্রচারণার সূত্রপাত করেন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অ্যাক্টিভিস্ট অমি পিয়াল। ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলের একটি ছবির ক্যাপশনে তিনি দাবি করেন, জামায়াতপন্থী শাহরিয়ার কবির নাকি একসময় আওয়ামী লীগ করতেন। পরবর্তী সময়ে অমি পিয়ালের এই ভুয়া পোস্ট শেয়ার করেন নেত্র নিউজের সাংবাদিক আকিব মোহাম্মদ শাতিল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুন এবং নিজেকে সাংবাদিক ও গবেষক হিসেবে দাবি করা মীর হুযাইফা আল মামদূহসহ বিএনপি ও আওয়ামী লীগপন্থী বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট।
তবে ‘বেঙ্গল লেন্স’-এর নিবিড় যাচাই ও নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রচারিত ছবিটি আওয়ামী লীগের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির নয়। মূলত ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশ ব্যারিস্টার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (BAB) কর্তৃক আয়োজিত বার্ষিক পেশাগত নৈশভোজের ছবি ছিল সেটি। প্রতিষ্ঠানটি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বার থেকে পাস করা ব্যারিস্টারদের একটি অলাভজনক পেশাগত প্ল্যাটফর্ম, যার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো দলীয় সম্পৃক্ততা নেই।
অনুষ্ঠানের ছবি ও নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উক্ত নৈশভোজে বিএনপি সমর্থিত ও জাতীয় স্তরের একাধিক হেভিওয়েট ব্যারিস্টার উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় সংসদের বর্তমান ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং বিএনপির প্রয়াত স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এছাড়া ব্যারিস্টার রফিকুল হক কিউসি ও ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজার মতো জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মূল সেলফিটি তোলা ব্যারিস্টার নূর উস সাদিক চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বেঙ্গল লেন্সকে জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ দলীয় রাজনীতিমুক্ত ব্যারিস্টারদের একটি পেশাগত মিলনায়োজন ছিল। অন্যদিকে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “এটি ব্যারিস্টারদের একটি পেশাগত নৈশভোজ ছিল, যেখানে পরিবারসহ অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল। আওয়ামী লীগের কোনো দলীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের জন্য একটি সাধারণ পেশাগত ছবি নিয়ে এই মিথ্যাচার ছড়ানো হচ্ছে।”
