আকিদার অজুহাত তুলে মুসলিম উম্মাহ ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে কৃত্রিম বিভেদ সৃষ্টি এবং জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে অর্জিত অভাবনীয় জাতীয় ঐক্য নস্যাৎ করার নেপথ্যে সরাসরি ভারতীয় আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত কাজ করছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষক মাওলানা কাজী মুহাম্মদ ইব্রাহীম। সম্প্রতি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি সমমনা ইসলামি দল ও আলেম সমাজকে এই বিষাক্ত চক্রান্তের ফাঁদে পা না দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
মাওলানা কাজী ইব্রাহীম বলেন, একজন ব্যক্তির মুসলিম পরিচয়ের জন্য ইসলামের মৌলিক ভিত্তিই যথেষ্ট—যিনি তৌহিদের কালেমা পাঠ করেছেন, কিবলামুখী হয়ে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করেন এবং মুসলিমদের জবেহ করা খাবার গ্রহণ করেন, সহিহ হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী তিনি মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিশেষ সুরক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে বর্তমানে অতি সামান্য মতপার্থক্যকে হিংসাত্মক রূপ দিয়ে একে অপরকে ‘আকিদা খারাপ’ কিংবা বাতিল আখ্যা দিয়ে দূরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা একটি পরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ।
ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট করেন যে—রাজনৈতিক রূপরেখা কোনো দ্বীনি মৌলিক আকিদার বিষয় নয়, বরং এটি রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনার পার্থিব কৌশল। নবুয়তের ঐতিহাসিক দলিল টেনে তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর খোলাফায়ে রাশেদিনের নির্বাচনও সাহাবায়ে কেরাম প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকেই সম্পন্ন করেছিলেন। এমনকি পবিত্র কোরআনের সুরা রুমের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি জানান, পারসিক অগ্নিউপাসকদের বিপরীতে রোমান খ্রিস্টানদের আকিদাগত ভ্রান্তি থাকা সত্ত্বেও কেবল কৌশলগত কারণে রাসুল (সা.) ও সাহাবিরা রোমানদের বিজয় প্রত্যাশা করেছিলেন।
তিনি জোর দিয়ে দাবি করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখতে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ সব দেশপ্রেমিক ও ইসলামি শক্তির মধ্যে ঐক্য ধরে রাখা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। কিন্তু এই ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্য ভেঙে চুরমার করতে ‘আকিদাগত বিচ্যুতির’ মনগড়া দোহাই দিয়ে দলগুলোর ভেতরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল উসকে দেওয়া হচ্ছে—যার মূল কলকাঠি সরাসরি দিল্লি থেকে নাড়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।
আলেম সমাজ ও রাজনৈতিক নেতাদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীত ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় মুসলমানদের পারস্পরিক অনৈক্য ও লড়াই সবসময় ইসলাম এবং স্বদেশের চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছে। তাই কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর প্রতি ঢালাওভাবে ‘গোমরাহ’ বা আকিদাগত ত্রুটির তকমা লাগিয়ে দিল্লির বিভাজনমূলক এজেন্ডা বাস্তবায়ন না করে দেশ, জাতি ও উম্মাহর স্বার্থে অবিলম্বে একটি সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার জোর তাগিদ দেন এই বিশিষ্ট আলেম।
