আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে সুইসাইডাল ড্রোন বা আত্মঘাতী ড্রোনের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় তুরস্কের তৈরি স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘কোরকুত’ (KORKUT) বিশ্বজুড়ে ব্যাপক নজর কেড়েছে। দেশটির শীর্ষ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আসেলসান (ASELSAN) জানিয়েছে, অত্যন্ত সাশ্রয়ী খরচে শত্রু ড্রোন ধূলিসাৎ করতে সক্ষম এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থাটি বর্তমানে ইউক্রেনসহ বিশ্বের নয়টি দেশে সফলভাবে মোতায়েন রয়েছে।
আসেলসানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেত আকিয়োল এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে কোরকুত ব্যবহার করে ইতিমধ্যে ‘সম্ভবত শত শত’ শত্রু ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে শুরু করে পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকারিতার সাথে কাজ করছে। এমনকি ইউক্রেনের বিমানবাহিনীও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের একটি বিশেষ ইউনিট সম্মুখ সমরে কোরকুত ব্যবহার করছে।
কোরকুতের সবচেয়ে বড় বৈপ্লবিক দিক হলো এর অবিশ্বাস্য কম অপারেশনাল খরচ। আসেলসানের দাবি অনুযায়ী, মাত্র ১০ হাজার মার্কিন ডলারেরও কম খরচে একটি আত্মঘাতী ড্রোন সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা সম্ভব। এই ব্যবস্থায় ব্যবহৃত প্রতিটি ৩৫ মিলিমিটার বিশেষ গোলার বাজারমূল্য প্রায় এক হাজার ডলার। লক্ষ্যবস্তুর অতি কাছাকাছি পৌঁছানোর পর প্রোগ্রামযোগ্য এই গোলাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিস্ফোরিত হয় এবং চারদিকে হাজার হাজার ধাতব খণ্ড ছড়িয়ে দিয়ে ড্রোনকে আকাশে টুকরো টুকরো করে দেয়।
বর্তমান আধুনিক ও প্রক্সি যুদ্ধে ছোট ও সস্তা ড্রোনগুলোর আক্রমণ রুখতে অনেক সময় লাখ লাখ ডলার মূল্যের ব্যয়বহুল আকাশ প্রতিরক্ষাকেন্দ্রিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়, যা ডিফেন্স বাজেটের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। কোরকুতের মতো অত্যাধুনিক কামানভিত্তিক ব্যবস্থা সেই ব্যয় কমিয়ে অত্যন্ত স্বল্প খরচে ঝাঁকে ঝাঁকে আসা ড্রোন হামলার জবাব দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।
তবে প্রযুক্তিগত কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। কোরকুত মূলত একটি স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হওয়ায় নিচু দিয়ে উড়ে আসা ছোট ও ধীরগতির ড্রোন বা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে অতুলনীয়। তবে অতি দ্রুতগতির জেট ইঞ্জিনচালিত আধুনিক ক্রুজ মিসাইল বা ড্রোনের বিরুদ্ধে এর নিখুঁত কার্যকারিতা নিয়ে এখনও পর্যাপ্ত প্রকাশ্য তথ্য বা ডেটা নেই। ফলে সব ধরনের আকাশপথের সর্বাত্মক হুমকি মোকাবিলায় এটি এককভাবে সমান কার্যকর—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ সীমিত।
ইউক্রেনসহ মোট নয়টি দেশে কোরকুতের এই বিস্তার মূলত বিশ্ববাজারের সামরিক ময়দানে তুর্কি প্রতিরক্ষা শিল্পের অভাবনীয় সাফল্যেরই জোরালো ইঙ্গিত দেয়। আধুনিক ড্রোন যুদ্ধের পরিবর্তনশীল রণকৌশল এবং কম খরচে আকাশসীমা সুরক্ষার তাগিদে বিশ্বজুড়ে এমন সাশ্রয়ী কামানভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
