দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর অবশেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) রেলস্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তঃনগর ‘সাগরদাঁড়ি’ ও ‘তিতুমীর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রাবিরতি শুরু হয়েছে। প্রায় দীর্ঘ তিন যুগ (৩৬ বছর) পর ঐতিহ্যবাহী এই স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেন দুটির যাত্রাবিরতিকে কেন্দ্র করে শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) রাতে গোটা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সৃষ্টি হয় এক আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
শনিবার রাতে তিতুমীর ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস প্ল্যাটফর্মে এসে পৌঁছালে অপেক্ষমাণ হাজারো শিক্ষার্থী বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠেন। রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে ব্যান্ড পার্টির সুরের মূর্ছনা এবং ঢোলের তালে ট্রেনের চালক, পরিচালনা কর্মী ও সাধারণ যাত্রীদের মিষ্টি খাইয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান রাবি শিক্ষার্থীরা।
এই অর্জনকে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের সুফল উল্লেখ করে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রেল মন্ত্রণালয়ের যৌথ সহযোগিতায় প্রাথমিকভাবে এই দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চালু করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে ‘বনলতা’, ‘পদ্মা’ ও ‘মধুমতী’ এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলোর যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে রেল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা জোরদার রাখা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পাওয়া এই ঐতিহাসিক সুবিধা যেন দীর্ঘদিন ধরে সুফল দেয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে রাকসু জিএস স্পষ্ট নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “বিন টিকিটে ভ্রমণ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। দাঁড়িয়ে গেলেও স্ট্যান্ডিং টিকিট নিতে হবে এবং রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে সর্বদা শালীন আচরণ করতে হবে। নিয়ম মেনে চললে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে রাকসু সবসময় পাশে থাকবে।”
উল্লেখ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি বন্ধ থাকায় বিশেষ করে রাতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়তে হতো। মূল রাজশাহী স্টেশন থেকে রাতে ক্যাম্পাসে ফিরতে অতিরিক্ত অর্থ, সময় ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তেন তারা। রাবি শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবির মুখে অবশেষে রেল কর্তৃপক্ষ ঐতিহ্যবাহী রাবি স্টেশনে ট্রেন থামানোর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করল।
