বিএনপির কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতা এম ইলিয়াস আলীকে গুম ও সশরীরে হত্যার চাঞ্চল্যকর অপরাধে অভিযুক্ত র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক বরখাস্তকৃত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং সাবেক উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা পিছিয়ে আগামী ২৫ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখ ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) ট্রাইব্যুনালের বিচারিক বেঞ্চ এই আদেশের অনুমোদন দেন। এ দিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন চিফ প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তিনি আদালতকে অবহিত করেন যে, বহুল আলোচিত এই গুম মামলার গভীর ও বিস্তারিত তথ্যপ্রমাণ চূড়ান্ত করতে তদন্ত সংস্থার আরও সময়ের প্রয়োজন। পরবর্তীতে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক দশক আগে সিলেট অঞ্চলের জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা ইলিয়াস আলীকে অপহরণের প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। তবে তৎকালীন র্যাবের প্রভাবশালী পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (পরবর্তীতে মেজর জেনারেল) জিয়াউল আহসানের সরাসরি কমান্ড ও নেতৃত্বে পরিচালিত দ্বিতীয় অভিযানেই তাকে সফলভাবে গুম করা হয় বলে নিরপেক্ষ ও নিবিড় তথ্য হাতে পেয়েছে সংস্থাটি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোপন তথ্যে উন্মোচিত হয় যে, ঘটনার সময় বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুর রহমান র্যাবের প্রভাবশালী গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের জামাতা এই সাইফুর রহমান সর্বশেষ বিমান সদর দপ্তরের ‘ডিরেক্টরেট অব এয়ার ট্রেনিং’-এর ডেপুটি ডিরেক্টর পদে বহাল থাকাকালীন এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত হন।
চলতি বছরের ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের শতাধিক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ওপর সাক্ষ্য প্রদান করেন সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েস। তাঁর দেওয়া চাঞ্চল্যকর জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে তুলে নিয়ে যাওয়া ও পরবর্তী হত্যাকাণ্ডে সাইফুর রহমানের প্রত্যক্ষ সংশ্রব প্রকাশ্যে আসে।
এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গত ২৬ জুলাই রাতে বিমানবাহিনীর এই কর্মকর্তাকে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট) তাঁর নিজ বাসা থেকে আটক করে কঠোর সামরিক হেফাজতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আদেশে ২৩ আগস্ট তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। জিয়াউল আহসান ও সাইফুর রহমানের যৌথ নির্দেশনায় গুমের নেটওয়ার্ক কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল, তা নিয়ে জোর তদন্ত চালাচ্ছে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল।
