নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সিনিয়র লেকচারার ও জাতীয় পার্টির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাকিব রহমান সম্প্রতি জাতীয় পার্টির ভেতরের ভারতীয় প্রভাব নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তান হাইকমিশনারের সঙ্গে একটি নৈশভোজে অংশ নেওয়ার পর ভারতের আপত্তিতে তাকে হঠাৎ করেই দল থেকে অপসারণ করা হয়।
তার ভাষ্যে, ২০২২ সালের মে মাসে পাকিস্তান হাইকমিশনারের বাসভবনে এক নৈশভোজে অংশগ্রহণের পর ভারতীয় হাইকমিশনের রাজনৈতিক সচিব অনিমেষ দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের কাছে সরাসরি আপত্তি জানান। এরপর কাদের তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। সাকিবের দাবি, ভারতীয় কূটনীতিক বরখাস্তের কাগজ দেখেছেন, অথচ তিনি নিজে কোনো চিঠি পাননি।
তিনি আরও বলেন, দলের ভেতরে দিল্লির প্রতি কাদেরের অস্বাভাবিক আনুগত্য বরাবরই চোখে পড়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভারতের ভূমিকা এতটাই প্রভাবশালী ছিল যে, তিনি সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ফেরার প্রস্তাব পাওয়ার পরও মাত্র একদিনের মাথায় আবার তা বাতিল হয়ে যায়।
২০২৩ সালের এপ্রিলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘোষণা দেন এবং এখন স্পষ্টভাবে বলছেন, “জাতীয় পার্টি কখনোই নিজস্ব পরিচয় বহন করেনি, বরং আওয়ামী লীগ ও দিল্লির স্বার্থ বাস্তবায়নের হাতিয়ার ছিল।”
সাকিব রহমান মনে করেন, এই সত্য প্রকাশ জনগণকে জাতীয় পার্টির প্রকৃত চরিত্র বোঝাতে সাহায্য করবে। এখন জনগণই ঠিক করবে, তারা কাদের ও জাতীয় পার্টিকে কীভাবে দেখবে।
এই প্রকাশ্য দায় স্বীকারকে অনেক বিশ্লেষক জাতীয় পার্টির ভেতরের “ভারতীয় হস্তক্ষেপের প্রমাণ” হিসেবে দেখছেন।







