জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের দায় স্বীকার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, “তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশে ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা চালানো হয়। এত বড় গণহত্যা আমার দায়িত্বকালীন সময়ে ঘটেছে। তার দায় আমি স্বীকার করছি।”
তিনি গণহত্যার শিকার পরিবার, আহত ব্যক্তি, দেশবাসী ও ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চান। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতির নেপথ্য কাহিনিও তিনি স্বীকারোক্তিতে তুলে ধরেন। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জবানবন্দি দিয়ে তিনি এ মামলার রাজসাক্ষী হন।
আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, বিবেকের তাড়নায় ও অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পেতেই তিনি অ্যাপ্রুভার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আন্দোলন দমন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের পাশাপাশি তিনি নিজেও আসামি ছিলেন।
তার স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে—
হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার ছিল সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি ও ডিজিএফআই এর হেফাজতে চাপ প্রয়োগ করা হয়।
২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে ব্যালট বাক্সে ৫০ শতাংশ ভোট ভরে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী।
নির্দেশ মান্যকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিপিএম- পিপিএম পদক দিয়ে পুরস্কৃত করা হতো।
র্যাবের অধীনে গোপন বন্দিশালা, নির্যাতন, ক্রসফায়ার ও হত্যা চলত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশে।
আন্দোলন দমনে সরাসরি লেথাল উইপন ব্যবহার এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।
নিহতদের লাশ একত্র করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়, যা তাকে ভীষণভাবে মর্মাহত করেছে।
চৌধুরী মামুন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমার চাকরিজীবনে এত বড় গণহত্যা হয়েছে। এর দায় স্বীকার করছি এবং ভিক্টিমদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমাকে দয়া করে ক্ষমা করবেন।”
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, সাবেক আইজিপি ট্রাইব্যুনালে দোষ স্বীকার করে পূর্ণাঙ্গ সত্য প্রকাশ করেছেন। তিনি শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সময়ে সংঘটিত গুম, খুন, ক্রসফায়ার ও জুলাই আন্দোলনের নৃশংসতার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।
