অতীতে আইন থাকা সত্ত্বেও তার যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় একাধিক নির্বাচনে কারচুপি ও জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। ওইসব নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাই অনেক সময় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছেন। এতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এখন সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পাতানো নির্বাচন রোধে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
সম্প্রতি নির্বাচন ভবনে “নির্বাচনি আইন ও আচরণবিধি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়” শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অতীতের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কর্মকর্তারা বলেন, আগের কয়েকটি নির্বাচন জালিয়াতির দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। বিশেষ করে সাবেক সিইসি কেএম নুরুল হুদার অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বিরোধীরা ‘নিশিরাতের ভোট’ বলে আখ্যায়িত করে। এমন অভিজ্ঞতা পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার ইসি কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
কর্মশালায় উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, আচরণবিধি যথাযথভাবে মানা গেলে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হবে, ভোটাররা নিরাপদ বোধ করবেন এবং ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু অতীতে আইন প্রয়োগে শিথিলতা, ক্ষমতাসীনদের প্রভাব এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার কারণে নির্বাচন নিয়ে জনগণের আস্থা হারিয়ে গেছে। এর ফলেই ভোটার উপস্থিতি কমেছে। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা।
কর্মশালায় আরও বলা হয়, আইন থাকলেও তার প্রয়োগে দুর্বলতা আছে। ফলে নির্বাচন কমিশন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে উত্তরণের জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
-
মাঠপর্যায়ে ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটিকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া,
-
আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনায় জেলা প্রশাসন, রিটার্নিং অফিসার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান যুক্ত করা,
-
নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্বে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও পর্যাপ্ত সংখ্যা নিশ্চিত করা,
-
রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা,
-
এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা দেওয়া।
অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের অনেকে স্বীকার করেছেন, দায়িত্বে অবহেলা, প্রভাবশালীদের বিরাগভাজন হওয়ার ভয়ে নিষ্ক্রিয়তা এবং সমন্বয়ের অভাবের কারণে অতীতে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত হয়েছে। তবে এবার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিতে ইসি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
