পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নে এক কলেজছাত্রী ও তাঁর বৃদ্ধ বাবাকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ডায়না আক্তার (২৩) জানান, উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ছাত্রদল নেতা তারিকুল ইসলাম মিঠু ও তাঁর চাচাতো ভাই সায়মুন মাতব্বর লোহার রড দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি তাঁর ওড়না ও বাবার লুঙ্গি টেনে খুলে নেন। বুধবার দুপুরে স্লুইজ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ডায়না ও তাঁর বাবা রহিম খাঁ (৭০) গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
ডায়না অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা রেজাউল মাতব্বরের ছেলে সায়মুন তাঁকে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বললে প্রতিবাদ করেন। তখন সায়মুন প্রথমে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। তাঁর বাবাকে মারধর করা হয় এবং পরে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি তারিকুল ঘটনাস্থলে এসে হামলায় যোগ দেন। এতে ডায়নার শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে গেছে এবং একটি চোখে দেখতে অসুবিধা হচ্ছে। এর আগেও সায়মুন তাঁর ওপর জবরদস্তিমূলক আচরণ করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় চরমোন্তাজ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল মুন্সি বলেন, “তরুণীর গায়ে হাত দেওয়া বড় ধরনের অপরাধ। জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না।”
ঘটনার পর সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণকারী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত দুই নেতা—তারিকুল ইসলাম মিঠুকে সাংগঠনিক পদ থেকে এবং সায়মুন ইসলামকে দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রদল। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তুষার আহম্মেদ বলেন, ডায়নার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে পুলিশি অনুমতি ছাড়া বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।
অভিযুক্ত তারিকুল ইসলাম মিঠু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ডায়না তাঁর চাচিকে গালাগাল করেছিল, তাই ঘটনাটি ঘটে। তাঁর দাবি, ডায়না ও তাঁর বাবা সায়মুনকেও আঘাত করেছেন। বর্তমানে সায়মুন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
রাঙ্গাবালী থানার ওসি শামীম হাওলাদার বলেন, ঘটনাটি শোনার পর ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







