রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মামলার শেষ সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে। এর মাধ্যমে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া সমাপ্ত হবে। তার বক্তব্যের অংশবিশেষ ও জব্দকৃত ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার করা হতে পারে। বিচারকার্য শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে।
আইও-এর জবানবন্দি ও জেরায় কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য শেষ হওয়ার পর আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষী দেওয়ার নিয়ম থাকলেও শেখ হাসিনা পলাতক থাকায় সে সুযোগ নেই। এরপর মামলায় যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শুরু হবে।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ হতে অক্টোবর মাস পুরোটা লাগতে পারে। তবে আশা করা হচ্ছে—শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় নভেম্বরেই ঘোষণা হতে পারে।
রাষ্ট্রপক্ষের বিপরীতে নিযুক্ত আইনজীবী মো. আমীর হোসেন সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে বলেন, শেখ হাসিনা কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন এবং কোনো গণহত্যায় অংশ নেননি। তবে আসামি পলাতক থাকায় সাফাই সাক্ষী হাজির করার সুযোগ নেই।
ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে, আসামি পলাতক হলেও আইনজীবী সব সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদিকে প্রসিকিউশনের হাতে রয়েছে বিপুল ডকুমেন্টস ও প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য। ফলে মামলার যুক্তিতর্ক জমে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পলায়নের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলাটি দায়ের হয় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে।
এ মামলায় পাঁচটি প্রধান অভিযোগ ও সাড়ে আট হাজারের বেশি নথি জমা পড়েছে। চলতি বছরের ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ইতিমধ্যে অন্যতম আসামি সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।







