ইসলামী ব্যাংকসহ এস আলম গ্রুপ নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি ব্যাংকে দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়ম বহির্ভূত নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানোর অভিযোগ উঠেছে। শুরুতে নিয়োগ সীমাবদ্ধ ছিল চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায়। পরে তা আনোয়ারা, বাঁশখালি, গন্ডামারা ইউনিয়ন এবং শেষ পর্যন্ত সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায়ও বিস্তৃত হয়। এমনকি সর্বশেষ ধাপে চট্টগ্রামের বাইরের প্রার্থীরাও হাতে সিভি জমা দিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানা যায়।
অভিযোগ থাকলেও বাস্তবতা হলো—এই প্রক্রিয়ায় অনেক মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীও চাকুরি পেয়েছেন। তবে সমালোচকরা বলছেন, নিয়োগ পাওয়া একটি বড় অংশ স্বাভাবিক নিয়মে ব্যাংকে আবেদন করার যোগ্যতাও রাখতেন না।
দলীয় প্রভাবের বিষয়ে ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের দাবি, এস আলম গ্রুপ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দল-মত বিবেচনা করেনি। অরাজনৈতিক প্রার্থীর পাশাপাশি রাজনৈতিক মতাদর্শসম্পন্ন ব্যক্তিরাও চাকুরি পেয়েছিলেন। এমনকি রাজনৈতিক মামলার কারণে অনেকের চাকুরিও চলে গেছে। অর্থাৎ নিয়োগ যেমন দল-মতহীন ছিল, তেমনি চাকুরি হারানোর ক্ষেত্রেও দল-মত বিবেচনা করা হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এস আলমের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জামায়াত ইসলামী বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের ভূমিকা রাখার সুযোগ ছিল না। একইভাবে বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ইসলামী ব্যাংকে কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়েও জামায়াতের কোনো ভূমিকা নেই।
এদিকে, ব্যাংকের কর্মীরা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। কারণ অনেকেই ইতোমধ্যে পাঁচ বছরের বেশি সময় চাকুরি করছেন। অনেকের বয়স চাকুরির আবেদনের সর্বোচ্চ সীমা পার হয়ে গেছে। ফলে ছাঁটাই হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, চাকুরি ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার ও ইনসাফ নিশ্চিত করা জরুরি।







