খাগড়াছড়ির সাম্প্রতিক ধর্ষণের ঘটনায় কোনো আলামত পাওয়া যায়নি তবুও বিষয়টিকে কেন্দ্র করে পাহাড়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ—এমন অভিযোগ করেছেন সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিওন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ঘটনাটি একটি বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অশান্ত করতে ইউপিডিএফ বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করছে। এরই রেশ তিন পার্বত্য জেলায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।
দিল্লিতে বৈঠক ও ভারতীয় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
সেনা সূত্র দাবি করছে, চলতি বছরের মে মাসে দিল্লিতে জেএসএস নেতা সন্তু লারমা, ইউপিডিএফ নেতৃবৃন্দ এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়েছে। সেখানে পাহাড়কে অশান্ত করতে লজিস্টিক সাপোর্টের আশ্বাস দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম হয়ে ভারতের পুনে থেকে অস্ত্র আসার প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নেপথ্যে রাজনৈতিক ইন্ধন
সাম্প্রতিক সহিংসতায় ছাত্র-জনতাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে সেনা কর্মকর্তা জানান, পরিকল্পনা রয়েছে খাগড়াছড়ির পর রাঙামাটি ও বান্দরবানে একই ধরনের আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া এবং ঢাকায়–চট্টগ্রামে পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামানো।
ইতোমধ্যে উখ্যানু মারমা নামের এক ইউপিডিএফ নেতা নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, অন্তত ২০০ ফেসবুক পেজ ও আইডি সীমান্তবর্তী ভারতীয় নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুজব ছড়াচ্ছে। এসব পেজ আওয়ামী লীগপন্থি গোষ্ঠীর সাথেও যুক্ত বলে অভিযোগ।
সাবেক সেনা কর্মকর্তার মন্তব্য
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদ উল্লাহ চৌধুরী বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে পার্বত্য এলাকায় একের পর এক ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এর পেছনে ভারতের প্রত্যক্ষ মদদ ও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র রয়েছে। তিনি বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের সহানুভূতি পেতে পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি সম্প্রতি ত্রিপুরার রাজা পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতের সঙ্গে একীভূত করার দাবি তুলেছেন—যা দীর্ঘমেয়াদি ষড়যন্ত্রের অংশ।
সেনা কর্মকর্তাদের সতর্কতা
সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উসকানিতে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, কূটনৈতিকভাবে বিশ্বের কাছে আসল চিত্র তুলে ধরতে হবে। নইলে ভারতীয় মিডিয়া ও আওয়ামীপন্থি এনজিওগুলো বিষয়টি ঘোলাটে করে তুলবে।
খাগড়াছড়িতে বর্তমানে ১৪৪ ধারা বলবৎ রয়েছে। শহরে ঢুকতে কিংবা বের হতে তল্লাশি করা হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাহাড়ের জনগণকে সর্বদা সতর্ক থাকতে এবং প্রশাসনকে নজরদারি জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।







